বেষ্ট এন্ড্রয়েড মিউজিক প্লেয়ার- ৫ টি সেরা মিউজিক প্লেয়ার লিষ্ট

বেষ্ট এন্ড্রয়েড মিউজিক প্লেয়ার

বেষ্ট এন্ড্রয়েড মিউজিক প্লেয়ার লিষ্ট- ২০১৮


বেষ্ট এন্ড্রয়েড মিউজিক প্লেয়ারঃ হাজির হলাম আবারো বেষ্ট এন্ড্রয়েড মিউজিক প্লেয়ার লিষ্ট নিয়ে। আমরা সবাই গান শুনতে ভালোবাসি। অবসর সময়ে আমরা প্রায়ই আমাদের এন্ড্রয়েড ফোনে গান শুনি। বর্তমান সময়ে মানুষ আর স্পিকারে সাউন্ড দিয়ে গান শুনে না। সবার হাতেই আছে স্মার্টফোন, আর সেই স্মার্টফোনেই হাজার হাজার গান শুনতে পারি আমরা। গান শোনার জন্য সব থেকে উপযোগী ডিভাইস এন্ড্রয়েড ফোন। আর ডিভাইসে গান শোনার জন্য লাগবে একটি ভাল মিউজিক প্লেয়ার।

এন্ড্রয়েড ফোনে ডিফল্ট দুই একটি মিউজিক প্লেয়ার ইন্সটল করা থাকে তবে সব সময় এই ডিভাইস গুলো ভাল হয় না বা আমরা যেসব ফিচারস চাই তা থাকে না। তাই বাধ্য হয়ে আমাদের থার্ড পার্টি মিউজিক প্লেয়ার এপ ইন্সটল করা লাগে।

আজকে আমি আপনাদের জন্য ৫ টি বেষ্ট এন্ড্রয়েড মিউজিক প্লেয়ার এপ নিয়ে এসেছি যা আপনার গান শোনাকে করবে আরো শ্রুতি মধুর।

বেষ্ট এন্ড্রয়েড মিউজিক প্লেয়ার
Best Android Music Player Apps

তো চলুন শুরু করা যাক আজকের বেষ্ট এন্ড্রয়েড মিউজিক প্লেয়ার এপঃ

বেষ্ট এন্ড্রয়েড মিউজিক প্লেয়ার


Musixmatch

সব থেকে জনপ্রিয় অ্যাপ এটি। এই এপ এর জনপ্রিয়তার অনেক কারন আছে। এর বেশ কিছু ফিচার্স সত্যিকার অর্থেই অসাধারন। যারা লিরিক্স প্রেমি তাদের কাছে এই এপ খুবই জনপ্রিয়। আপনি যদি গান শুনতে শুনতে লিরিক্স পড়তে চান তবে এই এপ আপনার জন্য। এপটিকে আপনি পারমিশন দিলে অন্যান্য মিউজিক প্লেয়ারে গান প্লে করার সময়ও এটি চ্যাট হেডের মত একটি ফ্লোটিং উইন্ডোরে লিরিক্স দেখাবে। এছাড়া আপনি যেকোনো গানের লিরিক্স অনেকগুলো ভাষায় ট্রান্সলেট করেও দেখতে পারবেন। যেমন, আপনি একটি ইংরেজি গানের লিরিক্স চাইলে বাংলায়ও দেখতে পারবেন এই অ্যাপের সাহায্যে।

আরো বেশ অসাধারন কিছু ফিচার্স রয়েছে এই এপে। আপনি ইউটিউবে কোনও মিউজিক ভিডিও প্লে করার সময়ও ভিডিওর নিচে ফ্লোটিং উইন্ডোতে লিরিক্স দেখতে পারবেন। সব থেকে মজার এবং দরকারী একটি ফিচার্স এই এপের যে একটি নাম না জানা গান প্লে করলে এই এপটি আপনাকে নোটিফিকেশন বারের সাহায্যে জানিয়ে দেবে যে গানটির নাম কি এবং গানটি কার গাওয়া। এছারাও এর থেকেও আরও ইন্টারেস্টিং ফিচার হচ্ছে, লিরিক্স কার্ড তৈরি করা। আপনি চাইলে কোনও গানের লিরিক্স এর সাহায্যে একটি আর্টওয়ার্ক তৈরি করতে পারবেন এবং সেটা সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ারও করতে পারবেন। এবং কি আপনি গানের ট্যাগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এডিট করা, গানের কভার আর্ট চেঞ্জ করা এসব করতে পারবেন খুব সহজেই। এই অ্যাপটির ইউজার ইন্টারফেসও অনেক সুন্দর। কিন্তু এই মিউজিক প্লেয়ারটির একটি অসুবিধা হচ্ছে, এডস। কিন্তু অ্যাড ফ্রি ভার্শনও আছে। কিন্তু সেটি পেতে হলে আপনাকে গুনতে হবে প্রায় ১২০০ টাকা প্রতি বছর। কিন্তু অ্যাপটির ফিচারসগুলো কনসিডার করে কিছু পপআপ অ্যাডস মেনে নেওয়াই যায়।

ডাউনলোড করুন : এখানে

Groove Music

যারা  পিসিতে উইন্ডোজ ১০ ব্যাবহার করে থাকে, তারা এই নামটির সাথে পরিচিত। Groove Music হচ্ছে মাইক্রোসফট এর অফিশিয়াল মিউজিক প্লেয়ার। অর্থাৎ, এই মিউজিক প্লেয়ারটি মাইক্রোসফটের তৈরি। যদিও এই মিউজিক প্লেয়ারটির খুব বেশি ফিচারস নেই, কিন্তু আপনি যদি আপনার ডেস্কটপের মিউজিক প্লেয়ার এবং স্মার্টফোনের মিউজিক প্লেয়ারের মধ্যে মিল রাখতে চান, তাহলে  আপনার জন্য এই মিউজিক প্লেয়ারটিই বেস্ট হবে। কারণ, এই মিউজিক প্লেয়ারটিতে আপনি পাবেন আপনার পিসির মিউজিক প্লেয়ারের মত এক্স্যাক্ট সেম ইউজার ইন্টারফেস। অর্থাৎ, এই অ্যাপটিকে উইন্ডোজ ১০ এর ডিফল্ট মিউজিক প্লেয়ারের মোবাইল ভার্শন বলা যায়।

এই প্লেয়ারের দুটি অসাধারন ফিচার্স-

১) ইউজার ইন্টারফেইস

২) আপনার যদি মাইক্রোসফট এ একাউন্ট করা থাকে, তাহলে আপনার ওয়ানড্রাইভে ৫ জিবি স্পেস রয়েছে। আপনি যদি ওয়ানড্রাইভের এই ৫ জিবি স্পেসের মধ্যে কোনও মিউজিক আপলোড করে রাখেন, তাহলে আপনি Groove Music প্লেয়ারে গানগুলো যেকোনো সময় স্ট্রিম করে শুনতে পাবেন এবং সেটা শুনতে পাবেন আপনার যেকোনো ডিভাইসে যেটিতে Groove Music ইন্সটল করা আছে এবং আপনার মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট লগিন করা আছে। আপনাকে লোকাল স্টোরেজে সব গান রাখার দরকার হবেনা।

ডাউনলোড করুনঃ এখানে

Retro Music

আরেকটি অসাধারন মিউজিক প্লেয়ার। এই মিউজিক প্লেয়ারটি মূলত ভালো লাগে এর অসাধারণ ইউজার ইন্টারফেসের জন্য। আপনি খেয়াল করলে দেখবেন যে এই অ্যাপটির ইউজার ইন্টারফেস বা ডিজাইন তৈরি করা হয়েছে অনেকটা গুগল প্লে মিউজিক এবং অ্যাপল মিউজিক প্লেয়ার ডিজাইন ল্যাঙ্গুয়েজ একসাথে মিশিয়ে। অর্থাৎ, অ্যান্ড্রয়েড এবং আইফোনের ডিজাইন দুটি একসাথে করে এই মিউজিক প্লেয়ারটি তৈরি করা হয়েছে। যার ফলে, এই অ্যাপটির ইউজার ইন্টারফেস অন্যান্য মিউজিক প্লেয়ারের থেকে আলাদা এবং দেখতেও বেশ ভালোই লাগে অন্যান্য মিউজিক প্লেয়ারের তুলনায়। এর ডিজাইনটি কেমন, তা নিচের স্ক্রিনশটগুলা দেখলেই ধারণা পাবেন।

এছাড়া, এই অ্যাপটিতে কোনও মিউজিক প্লে করলে ওই গানটি এবং আর্টিস্টের সম্পর্কে ডিটেইলড ইনফরমেশন পাবেন গানের নামের নিচে। এছাড়া অ্যাডভান্সড ট্যাগ এডিট করার সুবিধাও থাকছে এই অ্যাপে। আপনি যেকোনো গানের এ্যালবাম নেম, আর্টিস্ট নেম, কভার আর্ট নিজের ইচ্ছামত চেঞ্জ করতে পারবেন। এই অ্যাপটি থার্ড পার্টি ডেভেলপারের তৈরি হলেও কোনও ধরনের বিরক্তিকর অ্যাডস নেই এই অ্যাপে। বিরক্তিকর অ্যাড নেই না বলে কোনও রকম অ্যাডই নেই বলা ভালো। কারণ এই অ্যাপটি সম্পূর্ণ অ্যাডফ্রি। এছাড়া এই অ্যাপে কিছু এক্সট্রা ইউআই কাস্টোমাইজেশন ফিচারসও রয়েছে যেগুলোর সাহায্যে আপনি অ্যাপটি একেবারে নিজের ইচ্ছামত সাজাতে পারবেন। অ্যাপের থিম, কালার এবং প্রায় সবকিছুই আপনি নিজে চেঞ্জ করতে পারবেন। এছাড়া অ্যাপটি বেশ লাইটওয়েট এবং ফাস্ট।

ডাউনলোড লিংক : এখানে

Phonograph

এই অ্যাপটিকে বলা যেতে পারে গুগল প্লে মিউজিকের একটি বেটার ভার্শন। কারণ, এই মিউজিক প্লেয়ারটির ডিজাইনের সাথে গুগল প্লে মিউজিকের অনেক মিল রয়েছে। কিন্তু, এই অ্যাপটিতে গুগল প্লে মিউজিকের থেকে বেশি ফিচারস রয়েছে এবং এটি গুগল প্লে এর মত এত হেভি এবং ল্যাগি অ্যাপ নয়। এই অ্যাপটির ইউজার ইন্টারফেসটিও যথেষ্ট সুন্দর। Retro Music এর মত এই অ্যাপটিও থার্ড পার্টি ডেভেলপারের তৈরি হলেও এতে একটিও অ্যাড নেই। এই অ্যাপটিও সম্পূর্ণ অ্যাডফ্রি। এই অ্যাপটির ডিজাইন এবং বিহেভিয়র অনেক সিম্পল এবং সহজ। এছাড়া, আগের অ্যাপটির মত এই অ্যাপটির সাহায্যেও যেকোনো গানের ট্যাগ এডিট করা যাবে এবং কভার আর্ট, আর্টিস্ট পিকচার ইত্যাদি চেঞ্জ করা যাবে। অনেক অ্যান্ড্রয়েড কাস্টম রমে এই অ্যাপটি ন্যাটিভ মিউজিক প্লেয়ার হিসেবেও ব্যাবহার করা হয়। এই অ্যাপটিতে তেমন খুব বেশি ইন্টারেস্টিং ফিচারস নেই, যেহেতু এই অ্যাপটির লক্ষ্যই হচ্ছে সিমপ্লিসিটি। তবুও এই অ্যাপটিতে অনেক ইউজার ইন্টারফেস কাস্টোমাইজ করার সুযোগ রয়েছে যার সাহায্যে আপনি এটিকে নিজের ইচ্ছামত করে কাস্টোমাইজ করে ব্যাবহার করতে পারবেন।

ডাউনলোড লিংক : এখানে

Listenit

নামটা সম্ভবত আপনার কাছে পরিচিত মনে হতে পারে। আমরা সবাই প্রায় ফোনে Shareit ব্যাবহার করি ফাইল শেয়ার করার কাজে। এই অ্যাপটি এই Shareit কর্পোরেশনের তৈরি। অর্থাৎ, যে ডেভেলপার Shareit অ্যাপটি ডেভেলপ করেছে, ওই একই ডেভেলপারের তৈরি মিউজিক প্লেয়ার এটি। এই অ্যাপটির ইউজার ইন্টারফেসও বেশ মিনিমাল এবং অ্যাপটিও বেশ লাইটওয়েট। এই অ্যাপটির সাহায্যে আপনি আপনার ফোনের স্টোরেজের গানগুলো নিশ্চিতভাবেই প্লে করতে পারবেন। তাছাড়া, এই অ্যাপটির একটি বড় অনলাইন মিউজিক লাইব্রেরিও আছে যেখান থেকে আপনি আপনার ইচ্ছামত গান স্ট্রিম করে শুনতে পারবেন। কিন্তু, তাই বলে এটা ভাববেন না যে এদের অনলাইন লাইব্রেরি Spotify বা Saavn এর মত এত বড়। ৫০% সময়ই আপনি অনলাইন লাইব্রেরিতে আপনি যে গানটি খুঁজছেন সেটি পাবেন না। কিন্তু মোটামুটি প্রায় সব জনপ্রিয় গানই পাবেন। এছাড়া সাপ্তাহিক ট্রেন্ডিং সংগুলোও স্ট্রিম করতে পারবেন। কিন্তু অনলাইন মিউজিক প্লেয়ার হিসেবে এটি আমার মতে খুব একটা ভালো নয়।। এছাড়া, বাকি ফিচারগুলোর কথা বলতে হলে, আপনি আগেরগুলোর মতই মিউজিক ট্যাগ এডিট করতে পারবেন, থিম এবং ইউজার ইন্টারফেস কাস্টোমাইজ করতে পারবেন নিজের ইচ্ছামত এবং এই অ্যাপে আপনি একটি বিল্ট ইন মিউজিক ইকুয়ালাইজারও পাবেন যার সাহায্যে আপনি মিউজিক নিজের ইচ্ছামত টিউন করতে পারবেন। আরও একটি ভালো ফিচার হচ্ছে, এই অ্যাপে আপনি গান থেকে রিংটোনও তৈরি করতে পারবেন। কিন্তু এই অ্যাপটির বড় একটি ডিসঅ্যাডভান্টেজ হচ্ছে, এটি অ্যাডফ্রি অ্যাপ নয়।

ডাউনলোড লিংক : এখানে

এই ছিলো আমার আজকের লিষ্টে। আপনাদের অন্য কোন এপ ভালো লাগতে পারে কিন্তু আমি এখানে আমার দেখা সেরা ৫ টি এপ এর কথাই লেখেছি।

এই লেখাটি ভাল লেগে থাকলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।

সবাইকে অনেক ধন্যবাদ আমার এই লেখাটি পড়ার জন্য।

(Visited 31 times, 1 visits today)
Don`t copy text!
Read previous post:
ডিলিট ফাইল রিকভার
ডিলিট ফাইল রিকভার করার অসাধারন টিপস এন্ড ট্রিক্স

ডিলিট ফাইল রিকভার করুন সহজেই- মেগা টিপস ডিলিট ফাইল রিকভারঃ আমরা নিজের অজান্তে অনেক সময় কম্পিউটার থেকে অনেক প্রয়োজনীয় ফাইল...

Close